Islam
22 Jan, 2026 • 10 views
হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবতার মহান শিক্ষক ও সর্বশেষ নবী
**হযরত মুহাম্মদ (সা.)** ইসলাম ধর্মের প্রবর্তক এবং আল্লাহ তায়ালার প্রেরিত সর্বশেষ রাসূল। তাঁর মাধ্যমে নবুওয়তের ধারা পূর্ণতা লাভ করে। তাঁর জীবন, চরিত্র, এবং দাওয়াহ কেবল মুসলমানদের জন্য নয়, বরং সমগ্র মানবজাতির জন্য এক অতুলনীয় আদর্শ।

*(চিত্র: মদিনার মসজিদে নববী, যেখানে মহানবী (সা.) শায়িত আছেন)*
---
## 🌹 জন্ম ও বংশ পরিচয়
হযরত মুহাম্মদ (সা.) **৫৭০ খ্রিস্টাব্দে** আরবের মক্কা নগরীর সম্ভ্রান্ত **কুরাইশ বংশে** জন্মগ্রহণ করেন।
* **পিতা:** আব্দুল্লাহ
* **মাতা:** আমিনা
* **শৈশব:** জন্মের পূর্বেই তিনি পিতাকে হারান এবং মাত্র ছয় বছর বয়সে মাতাকে হারিয়ে এতিম হন। এরপর দাদা আব্দুল মুত্তালিব এবং পরবর্তীতে চাচা আবু তালিবের স্নেহছায়ায় তিনি লালিত-পালিত হন।
---
## ✨ তারুণ্য ও 'আল-আমিন' উপাধি
শৈশব ও কৈশোর থেকেই তাঁর মধ্যে সততা, বিশ্বস্ততা এবং ন্যায়পরায়ণতার এক অনন্য সংমিশ্রণ ছিল। আরবের লোকেরা তাঁর সততায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে **“আল-আমিন”** (বিশ্বস্ত) উপাধিতে ভূষিত করে। ব্যবসায়িক লেনদেনে তিনি ছিলেন স্বচ্ছ এবং সর্বদা ন্যায়নীতির প্রতীক।
---
## 💍 পারিবারিক জীবন
২৫ বছর বয়সে তিনি মক্কার তৎকালীন ধনী ও বিদুষী নারী **খাদিজা (রা.)**-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন তাঁর জীবনের অন্যতম শক্তি এবং ইসলাম গ্রহণকারী **প্রথম নারী**।
---
## 📖 ওহি প্রাপ্তি ও নবুওয়ত
৪০ বছর বয়সে মক্কার অদূরে **হিরা গুহায়** ধ্যানেরত অবস্থায় তাঁর ওপর প্রথম ওহি নাযিল হয়। ফেরেশতা জিবরাঈল (আ.) এসে বলেন—
> **"اقْرَأْ" (পড়ো)।**
এভাবেই পবিত্র কুরআনের অবতরণ শুরু হয় এবং তিনি নবুওয়তের মহান দায়িত্ব লাভ করেন।

*(চিত্র: জাবালে নূর বা হিরা গুহা, যেখানে প্রথম ওহি নাযিল হয়)*
---
## ⚔️ দাওয়াত, সংঘাত ও হিজরত
নবুওয়তের পর তাওহীদের (একত্ববাদ) দাওয়াত দিতে গিয়ে তিনি অবর্ণনীয় নির্যাতনের শিকার হন। কাফিররা তাঁকে ও তাঁর সাহাবীদের ওপর হত্যা, বয়কট এবং সামাজিকভাবে একঘরে করে রাখার মতো জুলুম চালায়।
* **হিজরত:** নির্যাতনের মুখে আল্লাহর নির্দেশে **৬২২ খ্রিস্টাব্দে** তিনি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন।
* **মদিনা সনদ:** মদিনায় তিনি সকল ধর্ম ও বর্ণের মানুষের সাথে ঐতিহাসিক চুক্তি করেন এবং একটি শান্তিপূর্ণ ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন।
---
## 🏳️ মহান বিজয়ী ও ক্ষমার নজির
তিনি কেবল ধর্মীয় নেতাই ছিলেন না, ছিলেন এক অকুতোভয় সেনাপতি ও রাষ্ট্রনায়ক। বদর, উহুদ ও খন্দকের মতো যুদ্ধে তিনি সাহসিকতার সাথে নেতৃত্ব দেন।
**ফতেহ মক্কা (মক্কা বিজয়):**
মক্কা বিজয়ের দিন তিনি তাঁর ওপর নির্যাতনকারী চরম শত্রুদেরও হাতের মুঠোয় পেয়ে ক্ষমা করে দেন। তিনি ঘোষণা করেন:
> *"আজ তোমাদের ওপর কোনো অভিযোগ নেই, তোমরা সবাই মুক্ত।"*
বিশ্ব ইতিহাসে এমন ক্ষমার নজির বিরল।
---
## 🕋 বিদায় হজ ও ইন্তেকাল
১০ হিজরিতে তিনি বিদায় হজ পালন করেন। আরাফার ময়দানে লক্ষাধিক সাহাবীর সামনে তিনি যে ভাষণ দেন, তা **মানবাধিকারের ম্যাগনাকার্টা** হিসেবে স্বীকৃত।
* নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা।
* সুদ প্রথা বিলোপ।
* মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূরীকরণ।
**ইন্তেকাল:** ৬৩ বছর বয়সে ১১ হিজরি, রবিউল আউয়াল মাসে মানবতার এই শ্রেষ্ঠ বন্ধু মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে গমন করেন। তাঁকে মদিনার মসজিদে নববিতে দাফন করা হয়।
---
## 🌟 উপসংহার
হযরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন একজন আদর্শ পিতা, দয়ালু স্বামী, বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক এবং সর্বকালের সেরা শিক্ষক। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন—
> **"আর নিশ্চয়ই তুমি মহান চরিত্রের অধিকারী।"**
> *(সূরা কলম, আয়াত ৪)*
---
**সূত্রসমূহ:**
১. আল-কুরআনুল কারিম
২. সহীহ বুখারী ও মুসলিম
৩. আর-রাহিকুল মাখতুম ও সীরাতুন্নবী (ইবনে হিশাম)